দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালী উপকূলের সাগর কয়েক দিন ধরে উত্তাল রয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিও হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে মাছ ধরতে না পেরে খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। এতে উপকূলের জেলে ও ট্রলার মালিকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে আলীপুর-মহিপুর মৎস্য বন্দরের খাপড়াভাঙ্গা নদীতে ফিরে আসা বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলারের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জেলেরা জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরতে পারছেন না তারা। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় শত শত মাছ ধরার ট্রলার পটুয়াখালী উপকূলের অন্যতম মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুরের খাপড়াভাঙ্গা নদীতে আশ্রয় নিয়েছে।
ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে নামলেও দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে আশানুরূপ মাছের দেখা মিলছে না। এতে উপকূলের হাজারো জেলে ও ট্রলার মালিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন।
আলীপুর মৎস্য বন্দরের দীর্ঘদিনের মাছ ব্যবসায়ী ইউসুফ কোম্পানি বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষে দফায় দফায় আবহাওয়া খারাপ হচ্ছে। টানা বৃষ্টির কারণে সাগর থেকে ট্রলার নিয়ে বারবার জেলেরা ঘাটে ফিরে আসছেন। প্রতিটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকার বাজার করে সাগরে পাঠাতে হয়। কখনো নিম্নচাপ, কখনো লঘুচাপ—সব মিলিয়ে ট্রলার মালিকরা বড় ধরনের ক্ষতির মধ্যে আছেন।’
জেলেরা জানান, ১০ থেকে ১৫ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে সাগরে গেলেও আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় দুই-এক দিনের মধ্যেই ঘাটে ফিরে আসতে হচ্ছে। এতে মাছ ধরার খরচও উঠছে না। অনেক জেলে দাদন নিয়ে এ পেশায় থাকায় লোকসানের বোঝা আরও বাড়ছে।
এফবি মা মনি ট্রলারের মাঝি শুক্কুর হাওলাদার বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি। আমরা মাছ না পেলে আড়তদাররাও টাকা দেন না। বাজারসওদা করে সমুদ্রে নামার দুই-এক দিনের মধ্যেই আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে আবার ঘাটে ফিরে আসি। দুই দিন আগে সাত লাখ টাকার বাজার নিয়ে সাগরে গিয়েছিলাম। মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকার মাছ নিয়ে ফিরে এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে এ পেশা ছেড়ে দিতে হবে।’
মহিপুর আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, ‘ইলিশের দাম চড়া থাকলেও মাছের তেমন দেখা মিলছে না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে না পারায় জেলে ও আড়তদার—দুই পক্ষই বিপাকে পড়েছে।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলো সকাল থেকে ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর বারবার উত্তাল হয়ে পড়ছে বলেও তিনি জানান।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আপাতত নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে এর প্রভাবে আগস্টের অবশিষ্ট সময়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এমএম/